বিদ্রোহী কবি শুভ জন্মদিন

নজরুল-নেশন-নিউজ

তাঁর লেখার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলো ব্রিটিশ সরকার। বিশের বাঁশী সহ পাঁচটি গ্রন্থ বাজেয়াপ্ত করা হয়। ‘আনন্দময়ীর আগমন’ কবিতার জন্য তাকে জেল খাটতে হয়েছিল। নজরুলের ধূমকেতু পত্রিকা সেই ১৯২২ সালে লিখেছিলো, ‘ কংগ্রেস বলছে-শান্তির সাথে আর বৈধ উপায়ে আমাদের স্বরাজ পেতে হবে। কিন্তু সেই স্বরাজের স্বরূপটা ? অশ্বডিম্ব ? সকল মানুষ সমান অধিকার না পেলে স্বাধীনতা টাধিনতায় কিছু হবে না। বিদেশি কবল হতে দেশকে মুক্ত করা যেমন আবশ্যক তেমনি আবশ্যক আমাদের দেশীয় ডাকাতদের হাত হতেও দেশের প্রাণশক্তিকে উদ্ধার করা। আমাদের ঘরে বাইরে সংগ্রাম চালাতে হবে। ”

বাঙালির আরেক মহান মানুষ সুভাষ চন্দ্র বসু বলেছিলেন, “আমরা যখন যুদ্ধক্ষেত্রে যাব, তখন সেখানে নজরুলের যুদ্ধের গান গাওয়া হবে। আমরা যখন কারাগারে যাব, তখনও তাঁর গান গাইব। আমি ভারতের বিভিন্ন প্রদেশে ঘুরে বেড়াই, বিভিন্ন প্রাদেশিক ভাষায় জাতীয় সংগীত শুনবার সৌভাগ্য আমার হয়েছে, কিন্তু নজরুলের ‘দুর্গম গিরি কান্তার মরু’র মত প্রাণ মাতানো গান কোথাও শুনেছি বলে মনে হয় না। কবি নজরুল যে স্বপ্ন দেখেছেন, সেটা শুধু তাঁর নিজের স্বপ্ন নয়, সমগ্র বাঙালি জাতির।”

জীবনানন্দের মতো কবি নজরুলকে নিয়ে তিনটির মতো প্রবন্ধ লিখেছিলেন এবং তিনি জীবনের প্রথম দিকে যাঁদের মাধ্যমে সবচেয়ে প্রভাবিত হয়েছিলেন নজরুল তাঁদেরই একজন।

প্রায় ৩৪ বছর নজরুল কথা বলতে পারলেন না। বাকশক্তি হারিয়েছিলেন। ৪৩ বছর ধরে একটা মানুষ নিজের সঙ্গে লড়লো। ব্রিটিশের সঙ্গে লড়লো। কাঠ মোল্লাদের সঙ্গে লড়লো। জেল খাটলো। আর সে মানুষটি বাকি ৩৪ বছর একেবারে নিঃসঙ্গ একা এবং বাকহীন ভাবা যায় না।

‘পূজিছে গ্রন্থ ভন্ডের দল মূর্খরা সব শোন/ মানুষ এনেছে গ্রন্থ, গ্রন্থ আনেনি মানুষ কোন’

ঠিক এইরকম কঠিনভাবে ভন্ডদের কেউ আমাদের ধরিয়ে দিতে পারতো না। যদি নজরুল না জন্মাতেন। আজ তিনি বলতে গেলে অচ্ছুৎ। এই দানবীক বিরাট মেধাবী মানুষকে নিয়ে খুব বেশি উৎসাহ দেখি না। একদল বলে নজরুল খাটি মুসলমান। তাকে টুপি পরাতে চায়। আরেকদল ওরা টুপি পরালো বলে গোস্বা করে বসে থাকে। কিন্তু কাজী নজরুল ইসলাম জরুরি এবং প্রাসঙ্গিক। যত আমরা অন্ধকারের দিকে ধাবিত হতে থাকবো ততই নজরুল প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠবেন। তাঁকে জাগতিক জীবনে ধরে আমাদের প্রাণ ফিরে আসবে। এটাই মনে করি।

শুভ জন্মদিন বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম।