জয়তু নকশাল বাড়ি

images (1)

গতকাল চলে গেলো নকশাল বাড়ি দিবস। আগামী বছরই নকশালদের পাঁজরের ইতিহাস ছুঁয়ে ফেলবে ৫০টি বছর। এই সংগ্রাম, এই যুদ্ধ, এই লড়াই। অনেক কিছুই দিয়ে গেছে। বিচ্ছিন্নতা ছিল। নানা উপদল তৈরি হয়েছিল। হুটহাট ছিলো। তারপরও যে স্বপ্নের বীজ বপন হয়েছিল। যে সাহস জন্ম দিয়েছিল। তাকে হাজার বার লাল সালাম। পাড়ার সবচেয়ে চৌক্ষুস, স্কুলের সবচেয়ে মেধাবী, পরিবারের সবচেয়ে শান্ত ছেলেটি-মেয়েটি সব ছেড়ে লড়াইয়ে নাম লিখিয়েছিল। চমৎকার কবিতা লেখা বালকটি তাঁর কবিতা উৎসর্গ করেছিলো মানুষের লড়াইয়ে।

নকশাল আন্দোলনের সময় প্রচুর পথ নাটক হয়েছিল। প্রচুর গান রচিত হয়েছিল। এগুলো স্ক্রিপ্ট এখন হয়তো পাওয়া যাবে কিংবা পাওয়া যাবে না। অসাধারণ প্রাণশক্তির সেই অভিনেতারা ছিলেন। যিনি লিখতেন তিনিও আগুন উগড়ে দিতেন। কলকাতায় পথনাটকেও পুলিশ গুলি করে নকশাল নাট্যকর্মী হত্যা করেছিলো। তাঁর নাম ছিলো প্রবীর।

প্রিয় সাহিত্যিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়। তাঁর প্রতি অভিমান আছে মানুষজনের। তাঁর প্রতি অপবাদ আছে। তিনি আন্দোলন সংগ্রাম এসব নিয়ে কম লিখেন কিংবা নকশাল আন্দোলন নিয়ে লিখেন নাই। নকশাল আন্দোলনের সময় তিনি গরীব শিক্ষক। একটা ছোট্ট স্কুল পড়ান। সেই শীর্ষেন্দু পুলিশের এক অফিসার বন্ধু যিনি পুলিশের নকশাল দমন বিভাগে যুক্ত ছিলেন। নাম ছিল রুনু তবে নামটি নিশ্চিত না। শীর্ষেন্দুর খুব প্রিয় বন্ধু ছিলেন। শুধুমাত্র নকশালদের উপর অমানবিক নির্যাতন করা সেই বন্ধুর সঙ্গে তিনি যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছিলেন। সেই পুলিশ বন্ধুর সাথে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি যোগাযোগ রাখেন নি। কারন তাঁর এই পুলিশ বন্ধুটিই নকশাল নেতা সরোজ দত্তের মাথা কেটে ভিক্টোরিয়ায় ফেলে রেখেছিলো।

সব শেষ কথা হচ্ছে। একটা স্বপ্ন। দুটি চোখ দিয়ে দেখা আলাদা সময়। নতুন দিন একটা নতুন শান্ত রাত। ঘরে দু’মুঠো ভাত সঙ্গে ভালো মন্দ। মজুরের ন্যায্য মজুরি। কৃষকের মুখে হাসি। কবিতা লেখা হবে, গল্প লেখা হবে, উপন্যাস লেখা হবে। মানুষ প্রকাশ্যে কথা বলবেই। কেউ জিভে ধরে আটকে দেবে না। কেউ জিভ কেটে নেবে না। এটাই ছিলো স্বপ্ন। এইসবের জন্যই এরা লড়েছিল। লাল সালাম নকশাল বাড়ি। জয়তু চারু মজুমদার।

লাল সালাম কমরেড চে

JimFitzpatrick-Che-1968

আমার যখন আঠারো ছুঁই ছুই করছে
তখনই হঠাৎ তোমাকে দেখি আমার সবুজ বাংলায়।
সুতোয় বুনো একটি রক্তিম টিশার্টে। কি অকৃত্রিম আত্মবিশ্বাসী হাসি আর লাল দৃষ্টিপাত প্রভাবিত করেছিলে খুব।
পরে বুঝেছি এই হাসি দেখে এখনো কাঁপে মানুষের শত্রুরা।

স্বাভাবিক নিয়মে যখন মানুষ গুণছে বসুন্ধরা। আমি তখন তোমার মোহে বিভোর। তোমাকে জানতে হাতে তুলে নিয়েছিলাম লাল মলাটের সময়। তোমাকে শুধু জানিই নি চিনেও ফেলেছিলাম অনেকটাই। বদ্ধ ঘর থেকে মুক্তি আর শিকল ভাঙ্গার ডাক দিয়েছিলে তুমি।

আমাদের এখানে দুঃখ দারিদ্র শোষণে অভ্যস্থ মানুষ। মৌলবাদ-সাম্রাজ্যবাদ-ক্ষমতালােভী-সাম্প্রদায়িক শকুনরা সবুজ প্রান্তরে হুলি খেলছে নিয়ত। শত সহস্র মানুষ হয়ে গেছে অতি প্রাকৃতিক শক্তির দাস। মানব মুক্তির আন্দোলন ঢং সাজে সুশীল বাক্যের বিনিময়ে। তোমার বড্ড বেশি প্রয়োজন হে বিপ্লবি।

আমার নীল চোখ বড় বেশি স্বপ্নকাতর।
আমি আরকেটি কিউবার অপেক্ষায়।

তেমাকে যখন সিআই এর এজেণ্ট গঞ্জালেজ যখন প্রশ্ন করেছিল-লাভ হয়নি কিছুই ‘এখন কি ভাবছেন’,।
ভাবছি বিপ্লবের মৃত্যু নেই।

বিপ্লবী আর্নেস্তো চে গুয়েভারা’র ৯অক্টোবর প্রয়াণ দিনে লাল সালাম। যুদ্ধ এখনও শেষ হয়নি কমরেড, এখনও অনেক লড়াই বাকি।