অগ্নীযুগের বিপ্লবী আমাদের মাস্টারদা

মাস্টারদা, আমাদের কাছে অসাধারণ এবং অনন্য মানুষ। আমাদের কৈশোরের নায়ক, যৌবনের সাহস। আমাদের কৈশোরে সুপারম্যান,ব্যাটম্যান কিংবা স্পাইডারম্যানের চেয়েও যিনি জরুরি। সত্যিকারের হিরো। যিনি নিজের মাতৃভূমির জন্য, মা-মাটি-মানুষের জন্য জীবন বিসর্জন দিয়েছিলেন। সূর্য সেন বা সূর্য কুমার সেন, ডাকনাম কালু, যিনি ‘মাস্টারদা’ নামে সমধিক পরিচিত। স্কুল শিক্ষক ছিলেন। তাই সবাই মাস্টার দা বলে ডাকতেন। ১৯৩০ সালের ১৮ এপ্রিল চট্টগ্রামে সশস্ত্র অভ্যুত্থান ঘটেছিল। মাস্টারদা ছিলেন সেই অভ্যুত্থানের অবিসংবাদী নেতা।

surjya-sen

প্রশস্ত কপাল, শীর্ণকায় অতি সাধারণ এক নিরীহ শিক্ষক, চোখে পড়ার মতো কিছুই নয়, অতি সাধারণ চেহারার এই অসাধারণ মানুষটি একদল অসামান্য দেশপ্রেমিক সশস্ত্র বিপ্লবী তৈরি করেছিলেন। নির্মল সেন, রামকৃষ্ণ বিশ্বাস, অপূর্ব, অনন্ত সিংহ, প্রীতিলতা, কল্পনা দত্তের মতো অসংখ্য মানব বারুদ তাঁর হাতে গড়া। ভারত উপমহাদেশে যে মানুষটি প্রথম ব্রিটিশদের রাজত্বের দাম্ভিকতায় প্রচন্ডভাবে ধাক্কা দিয়েছিলেন। তিনি মাস্টারদা সূর্য সেন। পরাধীন ভারতে চট্টগ্রাম সশস্ত্র অভ্যুত্থান, স্বাধীনতার পতাকা উত্তোলন, ভারতের স্বাধীনতা ঘোষণা এবং ইন্ডিয়ান রিপাবলিকান আর্মির সর্বাধিনায়ক মাস্টারদা সূর্য সেন ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে এক বীরত্বপূর্ণ আত্মত্যাগীর নাম।

১৮৯৪ সালের ২২ মার্চ চট্টগ্রামের রাউজান থানার নোয়াপাড়ায় এক নিম্নবিত্ত পরিবারে সূর্য কুমার সেনের জন্ম। তাঁর পিতার নাম রাজমনি সেন এবং মাতার নাম শশী বালা সেন। ভালো ছাত্র হিসেবে প্রথম বিভাগে এন্ট্রান্স পরীক্ষায় পাস করে ভর্তি হন চট্টগ্রাম কলেজে। পরে বহরমপুরের কৃষ্ণনাথ কলেজ থেকে বিএ পাস করেন ১৯১৮ সালে। শৈশবে পিতা মাতাকে হারানো সূর্য সেন কাকা গৌরমনি সেনের কাছে মানুষ হয়েছেন।

সূর্য সেনের শিক্ষাজীবন অতিবাহিত হয়েছে এমন এক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক যুগসন্ধিক্ষণে, যার দরুণ বিপ্লবী ভাবধারায় দীক্ষিত সূর্য সেন দেশের স্বাধীনতার জন্য আত্মত্যাগকে একমাত্র তপস্যা হিসেবে নিয়েছিলেন। তখন ভারতে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ ভারত রক্ষা আইন ১৯১৬, রাউলাট আইন ১৯১৯-এর মতো কালাকানুন তৈরি করে স্বাধীনতা আন্দোলনকে দমন করতে চেয়েছে। রাউলাট আইনের প্রতিবাদে গণবিক্ষোভে গুলি চালিয়েছে, জালিয়ানওয়ালা বাগে নৃশংস হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে, হাজার হাজার কর্মীকে কারারুদ্ধ করেছে, কিন্তু আন্দোলন স্তব্ধ হওয়ার পরিবর্তে আরো ব্যাপক ও তীব্র রূপ নিয়েছে। নিপীড়ন যত বেড়েছে, মানুষের প্রতিরোধ আন্দোলন তত শক্তিশালী হয়েছে। এ সময়ে বহরমপুর কলেজে পড়ার সময় তাঁর সঙ্গে বিপ্লবীদের সংযোগ ঘটে। স্বাধীনতা অর্জনের জন্য বিপ্লববাদী পথে আত্মনিয়োগ করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। তাই রাজনৈতিক কাজের সুবিধার্থে চট্টগ্রামে ফিরে শিক্ষকতার জীবন বেছে নেন। ছাত্রদেরকে অঙ্ক শেখানোর পাশাপাশি জীবনের লক্ষ্য সম্পর্কে সচেতন করে তুলতে থাকেন। তিনি বলতেন, ‘তোমাদের বিদ্যার্জন, তোমাদের দৈনন্দিন জীবনধারণ, তোমাদের ভাবী জীবনের স্বপ্ন ও চিন্তার মধ্যে সবকিছুর ঊর্ধ্বে মনে একটি কথাকে কি প্রোজ্জ্বল করে রাখতে পারবে পরাধীনতার অভিশাপ থেকে, ইংরেজের পরাধীনতার পীড়ন থেকে এই দেশকে মুক্ত করাই তোমাদের ব্রত, আমাদের জীবনের উদ্দেশ্য?’ তিনি নিজে তার সারাটি জীবন এই উদ্দেশ্যেই পরিচালিত করেছেন। পিতৃসম দাদা বউদির প্রতিশ্রুতি ও সম্মান রক্ষায় বিয়ে করলেও তিনি বিপ্লবী কর্মকাণ্ডে নিজেকে সার্বক্ষণিক নিয়োজিত রেখেছিলেন।

১৯১৮ সালে চট্টগ্রামে ফিরে চট্টগ্রামের বিপ্লবীদের সঙ্গে মিলে তিনি যুগান্তর দলকে সংগঠিত করতে থাকেন। তিনি বোঝানোর চেষ্টা করেছিলেন, ব্যক্তিগত হত্যা, প্রশাসনের সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন ব্রিটিশকে হত্যা করলে দৃষ্টি আকর্ষণ করা যাবে; কিন্তু ভারতবাসীকে রাষ্ট্রক্ষমতায় বসানো যাবে না। আবার অহিংস পথে সাম্রাজ্যবাদীদের কাছ থেকে স্বাধীনতা পাওয়া যাবে না। প্রচণ্ড আন্দোলনের চাপ ও সশস্ত্র প্রতিরোধের মাধ্যমেই কেবল স্বাধীনতা অর্জন সম্ভব। এ কারণে ধৈর্য আর যত্ন নিয়ে সংগঠন গড়ে তুলেছেন তিনি। ১৯২৩ সালে অর্থ সংগ্রহের জন্য চট্টগ্রামের পাহাড়তলীতে রেল কোম্পানির টাকা লুট করার মামলায় গ্রেফতার হন; কিন্তু প্রমাণের অভাবে কিছুদিন পরে মুক্তি পান। পরবর্তীতে ব্রিটিশ সরকার সব বিপ্লবী নেতা ও কর্মীদের বিনা বিচারে কারারুদ্ধ করতে থাকলে সূর্য সেন দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকেন। ১৯২৬ সালে সূর্য সেন পলাতক অবস্থায় কলকাতার আমহার্স্ট স্ট্রীটের এক মেসে পুলিশের হাতে ধরা পড়েন। প্রথমে মেদিনীপুর, তারপর বোম্বাইয়ের রত্নগিরি ও বেলগাঁও জেলে রাখা হয়। মাস্টারদা যখন রত্নগিরি জেলে আটক, তখন তাঁর স্ত্রীর কঠিন টাইফয়েড রোগ হয়েছিল দেওয়ানবাজারের যে বাসা থেকে মাস্টারদা পালিয়ে গিয়েছিলেন, তাঁর স্ত্রী সেখানে তখন মৃত্যুশয্যায় ছিলেন। বহু দরখাস্তের পর মাস্টারদাকে যখন পুলিশ পাহারায় রত্নগিরি জেল থেকে ছুটিতে চট্টগ্রাম আনা হয় মূমুর্ষু স্ত্রীকে দেখার জন্য, তাঁর স্ত্রীর আয়ু তখন সম্পূর্ণ নিঃশেষিত। সূর্য সেনের স্ত্রী বিপ্লবী কাজ-কর্মে তাঁকে নেয়ার জন্য মাঝে মাঝে বয়োকনিষ্ঠ সহকর্মীদের কাছে অনু্যোগ করতেন। স্বামীর কাজের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা পুষ্প দত্ত এ জীবনে আর এ বিপ্লবী নেতার দেহ-মনের সান্নিধ্যে যেতে পারেন নি। ১৯২৮ সালে বন্দিজীবন অতিবাহিত করে মাস্টারদা জেল থেকে মুক্তি পেয়ে চট্টগ্রামে ফিরে আসেন।

দেশের রাজনীতিতে তখন ভীষণ উত্তেজনা। কংগ্রেসের কলকাতা অধিবেশনে সুভাষ চন্দ্র বোসের পূর্ণ স্বাধীনতার দাবি আর গান্ধী নেহরুর Dominion status বা ঔপনিবেশিক স্বায়ত্তশাসনের দাবিকে কেন্দ্র করে তীব্র মতবিরোধ, বিপ্লবী নেতাদের সুভাষ চন্দ্রের প্রতি সমর্থন। সূর্য সেন তখন চট্টগ্রাম কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক।  ১৯২৯ সালে ১৩ সেপ্টেম্বর লাহোর জেলে একটানা ৬৩ দিন অনশন করে বিপ্লবী যতীন্দ্রনাথ মারা যান। এর প্রতিক্রিয়ায় সারা বাংলায় প্রচণ্ড বিক্ষোভ দেখা দেয়। বিক্ষোভ মিছিল ও সভায় নেতা সূর্য সেন বিপ্লবের পরবর্তী কার্যক্রমের পরিকল্পনা সদস্যদের সামনে তুলে ধরেন। বিপ্লবীরা স্বাধীনতার জন্য প্রয়োজনে জীবন উৎসর্গ করার শপথ নেন। এ জন্য তারা ‘মৃত্যুর কর্মসূচি’ ঘোষণা করেন। ১৯৩০ সালের শুরু থেকে আসকার খাঁর দিঘির পশ্চিম পাড়ে অবস্থিত কংগ্রেস অফিসে সূর্য সেন এবং অম্বিকা চক্রবর্তী ভবিষ্যৎএর সশস্ত্র বিপ্লবের রুপরেখা নিয়ে বিভিন্ন নেতাকর্মীদের সাথে আলোচনার পর ঠিক করেন শুধু শহর না, বরং বিভিন্ন গ্রাম এবং কক্সবাজার থেকেও বিপ্লবীদের নেয়া হবে। আইরিশ রিপাবলিকান আর্মির বিপ্লবের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে নিজেদের দলের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় “ইন্ডিয়ান রিপাবলিকান আর্মি, চিটাগাং ব্রাঞ্চ”। বাংলায় “ভারতীয় প্রজা তান্ত্রিক বাহিনী, চট্টগ্রাম শাখা”। যার সদস্যা সংখ্যা ছিলো প্রায় ৬০-এর অধিক। সবচেয়ে বিস্ময়কর ব্যাপার ছিলো, এই সংখ্যার মধ্যে শতকরা ৭০ ভাগ ছিলো ১৪ থেকে ১৯ বছরের তরুণ। আইরিশ বিপ্লবের ধাঁচে একটা পরিকল্পনা তৈরি করা হয়। মাস্টারদা সূর্যসেনের নেতৃত্বে জালালাবাদ যুদ্ধ, পাহাড়তলী ইউরোপীয় ক্লাব আক্রমণ, চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠন ইত্যাদি সহ সকল অপারেশনে এই দল গড়ে তোলা হয়েছিল একটি সুসংগঠিত সেনাবাহিনীর আদলে কিন্তু তার সাথে ছিল মৃত্যুপণ দেশপ্রেমে পাগল প্রজন্ম। এমন অবস্থায় ১৯৩০ সালের ১৬ এপ্রিল চট্টগ্রামে প্রকাশ্য রাস্তায় কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক সূর্য সেন স্বাক্ষরিত ইশতেহার ছড়ানো হলো। ‘দেশের দিকে দিকে স্বাধীনতার তুর্য ধ্বনি শোনা যাইতেছে, সর্বত্র আইন অমান্য সংগ্রামের আরম্ভ হইয়াছে। ১৯২১ সালে যেই চট্টগ্রাম ছিল সবার পুরোভাগে, আজ সেই চট্টগ্রাম পশ্চাতে পড়িয়া থাকিবে, ইহা ক্ষোভ ও লজ্জার কথা । কালবিলম্ব না করিয়া আমরাও ২২ এপ্রিল হইতে আইন অমান্য করিব স্থির করিয়াছি। ইহার জন্য সর্বসাধারণের সহানুভূতি চাই, সত্যাগ্রহী সেনা চাই, লোক ও টাকা চাই।’ এ ইশতেহার ছিল সূর্য সেনের ব্রিটিশ সরকারকে বিভ্রান্ত করার এক কৌশল। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে তিনি ধীরে ধীরে যে প্রস্তুতি নিয়েছিলেন, চট্টগ্রাম বিদ্রোহ, অস্ত্রাগার দখলের, তার তারিখ ঠিক করে রেখেছিলেন ১৮ এপ্রিল। চূড়ান্ত গোপনীয়তা, কঠোর নিয়ম-শৃঙ্খলা মেনে অল্প কিছু কিশোর তরুণকে নিয়ে গঠিত বিপ্লবী বাহিনীর সাহায্যে ঝড়ের গতিতে তাঁরা দখল করেন অস্ত্রাগার। রেল ও টেলিফোন, টেলিগ্রাফ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করেন। পুলিশ প্রশাসন এই অভিযানের বিন্দুমাত্র আঁচ করতে না পেরে হতভম্ব হয়ে পড়ে। এই অভিযানের সর্বাধিনায়ক ছিলেন সূর্য সেন। ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে বিপ্লবীরা তাদের দায়িত্ব শেষ করে ফিরে এলে পুলিশ অস্ত্রাগারকে হেড কোয়ার্টারস বানিয়ে সেখানে ব্রিটিশ পতাকা নামিয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। চট্টগ্রাম সম্পূর্ণরূপে ব্রিটিশ শাসন থেকে মুক্ত ছিল চারদিন। পরবর্তীতে অতিরিক্ত সৈন্য এনে ২২ এপ্রিল জালালাবাদ পাহাড় যুদ্ধের মাধ্যমে যুব বিদ্রোহের অবসান ঘটায় ব্রিটিশরা। ১৯৩০ সালের ২২ এপ্রিল বিপ্লবীরা যখন জালালাবাদ পাহাড়ে (চট্টগ্রাম সেনানিবাসের পাহাড়) অবস্থান করছিল সে সময় সশস্ত্র ইংরেজ সৈন্যরা তাঁদের আক্রমণ করে। দুই ঘন্টার প্রচন্ড যুদ্ধে ব্রিটিশ বাহিনীর ৭০ থেকে ১০০ জন এবং বিপ্লবী বাহিনীর ১২ জন নিহত হয়। এই বিদ্রোহ আপাত অর্থে ব্যর্থ হলেও স্বাধীনতার স্পৃহাকে আরো তীব্র করে তোলে ভারতবাসীর মধ্যে। পরবর্তীতে একের পর এক আক্রমণ চালিয়ে তিনি ব্রিটিশ সরকারকে অস্থির করে রাখেন। এক্ষেত্রে সবচেয়ে তাত্পর্যপূর্ণ ঘটনা ছিল, প্রীতিলতার নেতৃত্বে পাহাড়তলীর ইউরোপিয়ান ক্লাব আক্রমণ। প্রীতিলতার পূর্বে স্বদেশী সশস্ত্র আন্দোলনে নারীদের অংশগ্রহণ ছিল না। নারীদেরকে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত ছিল সূর্যসেনের প্রথাবিরোধী এক সাহসী পদক্ষেপ।

জালালাবাদ যুদ্ধের পর বিপ্লবীরা বিভিন্ন জায়গায় বিচ্ছিন্নভাবে আত্মগোপন করে ছিলেন। সূর্য সেন ১৬ জন বিপ্লবীকে নিয়ে ২৪ এপ্রিল রাতে বাড়িতে আসেন। এর মধ্যে অনন্ত সিং পুলিশের কাছে স্বেচ্ছায় ধরা দেন এবং কয়েকজনকে পুলিশ আটক করে এবং এদের বিরুদ্ধে ‘অস্ত্রাগার লুন্ঠন মামলা’ শুরু হয়। এ মামলা শুরু হওয়ার পর অসুস্থ অম্বিকা চক্রবর্তী পটিয়া থানার চক্রশালা গ্রামে গ্রেপ্তার হন। অম্বিকা চক্রবর্তী এবং সেসময় গ্রেপ্তার হওয়া অন্য বিপ্লবীদের নিয়ে ‘দ্বিতীয় অস্ত্রাগার লুন্ঠন মামলা’ শুরু হয়। প্রায় ১৯ মাস বিচারের পর ১৯৩২ সালের ১ মার্চ ‘অস্ত্রাগার লুন্ঠন মামলার’ রায়ে অনন্ত সিং, লোকনাথ বল এবং গনেশ ঘোষসহ ১২ জনকে দ্বীপান্তর বাসের আদেশ দেয়া হয়।

পরবর্তীতে অপর মামলায় অম্বিকা চক্রবর্তীর প্রাণদন্ডের আদেশ হয়, পরে হাইকোর্টে আপিলের রায়ে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দেয়া হয়। এ রায়ের পর সূর্য সেনকে গ্রেফতার করার জন্য পটিয়া এবং গোমদন্ডীতে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়। সরকার ৫০০০ টাকার পরিবর্তে ১০,০০০ পুরস্কার ঘোষনা করে। ১৯৩২ সালের ১৩ জুন রাত ৯টায় পটিয়ার ধলঘাট গ্রামে সাবিত্রী চক্রবর্তীর বাড়িতে তাঁকে ধরার চেষ্টা ব্যর্থ হয়। ব্রিটিশ ক্যাপ্টেন ক্যামেরনকে গুলি করে সূর্য সেন, প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার এবং কল্পনা দত্ত নিরাপদে সরে যেতে সক্ষম হলেও নির্মল সেন গুলিবিদ্ধ হয়ে প্রাণ বিসর্জন দেন।

১৯৩০ সালের ১৮ এপ্রিলের অন্যতম একটি পরিকল্পনা ছিল পাহাড়তলী ইউরোপীয় ক্লাব আক্রমণ। কিন্তু গুড ফ্রাইডে থাকায় সেদিন ঐ ক্লাবে কেউ ছিল না। মাস্টার’দা সূর্য সেন স্থির করেন ২৩ সেপ্টেম্বর ১৯৩২ সাল ইউরোপীয় ক্লাবে প্রীতিলতার নেতৃত্বে হামলা করা হবে। এ প্রসঙ্গে মাস্টার’দা লিখেছেন: “বাংলায় বীর যুবকের আজ অভাব নাই। বালেশ্বর থেকে জালালাবাদ, কালারপোল পর্যন্ত দৃপ্ত অভিযানে দেশের মাটি বারে বারে বীর যুবকের রক্তে সিক্ত হয়েছে। কিন্তু বাংলার ঘরে ঘরে মায়ের জাতিও যে শক্তির খেলায় মেতেছে, ইতিহাসে সে অধ্যায় আজও অলিখিত রয়ে গেছে। মেয়েদের আত্মদানে সে অধ্যায় রচিত হোক এই-ই আমি চাই। ইংরেজ জানুক, বিশ্বজগৎ জানুক, এদেশের মেয়েরাও মুক্তিযুদ্ধে পিছিয়ে নেই”।

২৩ সেপ্টেম্বর রাতে প্রীতিলতা সূর্য সেন-এর নির্দেশে ইউরোপীয়ান ক্লাব আক্রমণ করেন। হামলায় ৫৩ জন ইংরেজ হতাহত হয়েছিল। গুলিতে আহত প্রীতিলতা দৈহিকভাবে অত্যাচারিত হওয়ার চাইতে স্বেচ্ছামৃত্যুকে বেছে নিলেন। তিনি পটাসিয়াম সায়ানাইড খেয়ে আত্মহত্যা করেন।

ইংরেজ প্রশাসন সূর্য সেনকে জীবিত অথবা মৃত অবস্থায় বন্দি করার জন্য সর্বাত্নক চেষ্টা অব্যাহত রাখে। ১৯৩৩ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি পটিয়ার গইরলা গ্রামের ক্ষীরোদপ্রভা বিশ্বাসের বাড়ি থেকে ব্রিটিশ সৈন্যদের হাতে বন্দি হন সূর্যসেন। সূর্য সেন গৈরলা গ্রামে ক্ষীরোদপ্রভা বিশ্বাসের বাড়িতে আত্মগোপন করে ছিলেন। ব্রজেন সেনের সহোদর পুরস্কারের লোভে নেত্র সেন বিশ্বাসঘাতকতা করে সূর্য সেনের উপস্থিতির খবর পুলিশকে জানিয়ে দেয়। রাত ২টার দিকে অস্ত্রসহ সূর্য সেন এবং ব্রজেন সেন ধরা পড়েন। পরবর্তীতে সেই নেত্র সেনের আর অর্থ পুরস্কার পাওয়া হয়নি কারণ মাস্টারদার অনুগামী এক বিপ্লবী তাকে হত্যা করে। যার নাম আজও আমরা জানিনা। শুধু সে বিপ্লবীর নাম জানতেন একমাত্র নেত্র সেন এর স্ত্রী, যিনি কোনোদিন সেই নাম প্রকাশ করেননি। কারণ তিনি মাস্টারদার আদর্শে অনুপ্রাণিত ছিলেন ৷ বিশ্বাস করতেন দেশ প্রেমের কাছে বাকি সব তুচ্ছ ৷

এক বছর জেলহাজতে অমানুষিক নির্যাতন শেষে ব্রিটিশ সরকার তার ফাঁসির সময় নির্ধারণ করে ১৯৩৪ সালের ১২ জানুয়ারি গভীর রাতে। মৃত্যুর পর তার দেহটা দেশের মাটিতে সত্কার করাবার সাহস পায়নি ব্রিটিশ সরকার। তার মরদেহ ফেলে দিয়ে আসে গভীর সমুদ্রে। যে দেশের মাটি ও মানুষকে মুক্ত করার জন্য লড়েছিলেন তিনি, সে দেশের মাটিতে ও জনগণের কাছে সূর্যসেনকে রাখতে ভয় পেয়েছিল ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ। মৃত্যুর আগে সূর্যসেনের শেষ বাণী তাই আজো আমাদের শোষণ লুণ্ঠনবিরোধী আন্দোলনের সামনে একদিক নিশানার মতো। ফাঁসির মঞ্চে যাওয়ার আগে সাথিদের উদ্দেশে সূর্য সেন লিখে গেলেন, ‘আমি তোমাদের জন্য রেখে গেলাম মাত্র একটি জিনিস, তা হলো আমার একটি সোনালি স্বপ্ন। স্বাধীনতার স্বপ্ন। প্রিয় কমরেডস, এগিয়ে চলো। সাফল্য আমাদের সুনিশ্চিত। যদি লক্ষ্যে পৌছাবার আগে মৃত্যুর শীতল হাতে তোমাকেও স্পর্শ করে তবে আরব্ধ কাজের দায়িত্ব তোমার উত্তরসুরীদের হাতে অর্পণ করো।’’ তাঁর লাশ বস্তাবন্দী করে দূরসমুদ্রে ফেলে দেয়া হলো। বাংলার মাটিতে কোথাও যেন তাঁর চিহ্ন না থাকে। কিন্তু বিপ্লবী আত্মার যে মৃত্যু নেই। সূর্য সেন এ দেশের নির্যাতিত মানুষের হূদয়ে তাই আজও অমর। তাঁর দেখানো পথে বছরের পর বছর অত্যাচারীর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে এ দেশের মানুষ।

মাস্টারদা সূর্যসেনের স্বপ্ন ও সাধনার কথা আমরা যেন ভুলে না যাই।

ঘৃণা দিয়ে ভালোবাসা চাষ করা যায় না

আপনারা যারা সুশীল-কুশীল দাঁতে দাঁত চেপে বলতেছেন, সাহস কত আযানের সময় বাজনা বাজায়। মন্দিরের মানুষেরও দাঁত আছে। তাদেরও রাগে ক্ষোভে দাঁতে দাঁত চেপে ধরার অধিকার আছে। নিজেরটা বুঝেন অন্যরটা বুঝতে চান না।

যে মসজিদ নিয়া এই হাঙ্গামা। সেই মসজিদ সিলেটের সবচেয়ে ব্যস্ত একটা রাস্তার পাশে। গাড়ীর হর্ণ, গাড়ির ইঞ্জিনের শব্দ, মানুষের আওয়াজ, রিক্সার বেল; মন্দিরের বাজনা কিংবা মাইকের চেয়েও বিকট আওয়াজ করে। আপনারা পাঁচবার নামাজ পড়েন এই শব্দের সঙ্গে সমঝতা করে। কিন্তু অন্য ধর্মের কেঊ ফু দিলেই আপানদের চেহারা হয়ে যায় হিংস্র ভালুকের মতো। আপনারা আবার বলেন আমরা শান্তির জন্য মসজিদ আবাদ করি।

মসজিদ এবং এই মন্দিরের মধ্যে একটা অঘোষিত সম্প্রীতি ছিলো। সেইটা এবার নষ্ট করে দেয়া হলো। হিংসা উস্কে দেয়া হলো। এই হিংসার আগুন কতটা ভয়াবহ হতে পারে। সেই সময়টার চিন্তা করে আঁতকে উঠি।

এই হামলার পর একটা গোষ্টি খুব পরিষ্কার করে বলে বেড়াচ্ছে; আযানের সময় বাজনা বাজালে হামলা হবে। এখন ভারতের হিন্দুরাও যদি বলে কীর্তনের সময় আযান হলে; হামলা হবে। আরেকটা গোষ্টি বলছে এই মন্দিরের হিন্দুগুলো মসজিদ আক্রমণ করতে এসেছিলো। কিন্তু এই ডাহা মিথ্যা বলতে তাদের একটুও বাঁধছে না। হিন্দুরা মসজিদে হামলা করবে কিংবা আযানের সময় বাজনা বাজাবে। এটা বিশ্বাস করা এই সময়ের বাংলাদেশে খুব কঠিন। সারা বাংলাদেশে হিন্দুরা মার খাচ্ছে। জমি-জমা লুটপাট হচ্ছে। কখনো কোন খবর পেলাম না হিন্দুরা মসজিদ গুড়িয়ে দিয়েছে।

মানুষ হিসেবে প্রথম দায়িত্ব হলো, অন্যায়ের প্রতিবাদ করা। ধরে নিলাম, আযানের সময় বাজনা বাজানো হয়েছে(যদিও এর কোন সত্যতা নেই)। তার জন্য যারা গিয়ে মন্দির ঘিরে হামলা করলো। তারা কি করলো অন্যায় না ন্যায়। বাজনা বাজানীতে কোন মানুষের শরীর থেকে রক্ত গড়িয়ে পড়লো না। কিন্তু বাজনা বাজানীর অজুহাতে যে হামলা হলো সেখানে তো অর্ধ শতাধিক মানুষের শরীর থেকে রক্ত গড়িয়ে পড়লো। ঠিক কোনটা মারাত্মক অন্যায় এইটা বুঝতে আসলে স্কুল-মাদ্রাসার বারান্দায় যেতে হয় না।

ঘৃণা দিয়ে ভালোবাসা চাষ করা যায় না।
ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের ঐক্যর সমাজ বিনির্মাণ করুন।

জয়তু নকশাল বাড়ি

images (1)

গতকাল চলে গেলো নকশাল বাড়ি দিবস। আগামী বছরই নকশালদের পাঁজরের ইতিহাস ছুঁয়ে ফেলবে ৫০টি বছর। এই সংগ্রাম, এই যুদ্ধ, এই লড়াই। অনেক কিছুই দিয়ে গেছে। বিচ্ছিন্নতা ছিল। নানা উপদল তৈরি হয়েছিল। হুটহাট ছিলো। তারপরও যে স্বপ্নের বীজ বপন হয়েছিল। যে সাহস জন্ম দিয়েছিল। তাকে হাজার বার লাল সালাম। পাড়ার সবচেয়ে চৌক্ষুস, স্কুলের সবচেয়ে মেধাবী, পরিবারের সবচেয়ে শান্ত ছেলেটি-মেয়েটি সব ছেড়ে লড়াইয়ে নাম লিখিয়েছিল। চমৎকার কবিতা লেখা বালকটি তাঁর কবিতা উৎসর্গ করেছিলো মানুষের লড়াইয়ে।

নকশাল আন্দোলনের সময় প্রচুর পথ নাটক হয়েছিল। প্রচুর গান রচিত হয়েছিল। এগুলো স্ক্রিপ্ট এখন হয়তো পাওয়া যাবে কিংবা পাওয়া যাবে না। অসাধারণ প্রাণশক্তির সেই অভিনেতারা ছিলেন। যিনি লিখতেন তিনিও আগুন উগড়ে দিতেন। কলকাতায় পথনাটকেও পুলিশ গুলি করে নকশাল নাট্যকর্মী হত্যা করেছিলো। তাঁর নাম ছিলো প্রবীর।

প্রিয় সাহিত্যিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়। তাঁর প্রতি অভিমান আছে মানুষজনের। তাঁর প্রতি অপবাদ আছে। তিনি আন্দোলন সংগ্রাম এসব নিয়ে কম লিখেন কিংবা নকশাল আন্দোলন নিয়ে লিখেন নাই। নকশাল আন্দোলনের সময় তিনি গরীব শিক্ষক। একটা ছোট্ট স্কুল পড়ান। সেই শীর্ষেন্দু পুলিশের এক অফিসার বন্ধু যিনি পুলিশের নকশাল দমন বিভাগে যুক্ত ছিলেন। নাম ছিল রুনু তবে নামটি নিশ্চিত না। শীর্ষেন্দুর খুব প্রিয় বন্ধু ছিলেন। শুধুমাত্র নকশালদের উপর অমানবিক নির্যাতন করা সেই বন্ধুর সঙ্গে তিনি যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছিলেন। সেই পুলিশ বন্ধুর সাথে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি যোগাযোগ রাখেন নি। কারন তাঁর এই পুলিশ বন্ধুটিই নকশাল নেতা সরোজ দত্তের মাথা কেটে ভিক্টোরিয়ায় ফেলে রেখেছিলো।

সব শেষ কথা হচ্ছে। একটা স্বপ্ন। দুটি চোখ দিয়ে দেখা আলাদা সময়। নতুন দিন একটা নতুন শান্ত রাত। ঘরে দু’মুঠো ভাত সঙ্গে ভালো মন্দ। মজুরের ন্যায্য মজুরি। কৃষকের মুখে হাসি। কবিতা লেখা হবে, গল্প লেখা হবে, উপন্যাস লেখা হবে। মানুষ প্রকাশ্যে কথা বলবেই। কেউ জিভে ধরে আটকে দেবে না। কেউ জিভ কেটে নেবে না। এটাই ছিলো স্বপ্ন। এইসবের জন্যই এরা লড়েছিল। লাল সালাম নকশাল বাড়ি। জয়তু চারু মজুমদার।

বিদ্রোহী কবি শুভ জন্মদিন

নজরুল-নেশন-নিউজ

তাঁর লেখার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলো ব্রিটিশ সরকার। বিশের বাঁশী সহ পাঁচটি গ্রন্থ বাজেয়াপ্ত করা হয়। ‘আনন্দময়ীর আগমন’ কবিতার জন্য তাকে জেল খাটতে হয়েছিল। নজরুলের ধূমকেতু পত্রিকা সেই ১৯২২ সালে লিখেছিলো, ‘ কংগ্রেস বলছে-শান্তির সাথে আর বৈধ উপায়ে আমাদের স্বরাজ পেতে হবে। কিন্তু সেই স্বরাজের স্বরূপটা ? অশ্বডিম্ব ? সকল মানুষ সমান অধিকার না পেলে স্বাধীনতা টাধিনতায় কিছু হবে না। বিদেশি কবল হতে দেশকে মুক্ত করা যেমন আবশ্যক তেমনি আবশ্যক আমাদের দেশীয় ডাকাতদের হাত হতেও দেশের প্রাণশক্তিকে উদ্ধার করা। আমাদের ঘরে বাইরে সংগ্রাম চালাতে হবে। ”

বাঙালির আরেক মহান মানুষ সুভাষ চন্দ্র বসু বলেছিলেন, “আমরা যখন যুদ্ধক্ষেত্রে যাব, তখন সেখানে নজরুলের যুদ্ধের গান গাওয়া হবে। আমরা যখন কারাগারে যাব, তখনও তাঁর গান গাইব। আমি ভারতের বিভিন্ন প্রদেশে ঘুরে বেড়াই, বিভিন্ন প্রাদেশিক ভাষায় জাতীয় সংগীত শুনবার সৌভাগ্য আমার হয়েছে, কিন্তু নজরুলের ‘দুর্গম গিরি কান্তার মরু’র মত প্রাণ মাতানো গান কোথাও শুনেছি বলে মনে হয় না। কবি নজরুল যে স্বপ্ন দেখেছেন, সেটা শুধু তাঁর নিজের স্বপ্ন নয়, সমগ্র বাঙালি জাতির।”

জীবনানন্দের মতো কবি নজরুলকে নিয়ে তিনটির মতো প্রবন্ধ লিখেছিলেন এবং তিনি জীবনের প্রথম দিকে যাঁদের মাধ্যমে সবচেয়ে প্রভাবিত হয়েছিলেন নজরুল তাঁদেরই একজন।

প্রায় ৩৪ বছর নজরুল কথা বলতে পারলেন না। বাকশক্তি হারিয়েছিলেন। ৪৩ বছর ধরে একটা মানুষ নিজের সঙ্গে লড়লো। ব্রিটিশের সঙ্গে লড়লো। কাঠ মোল্লাদের সঙ্গে লড়লো। জেল খাটলো। আর সে মানুষটি বাকি ৩৪ বছর একেবারে নিঃসঙ্গ একা এবং বাকহীন ভাবা যায় না।

‘পূজিছে গ্রন্থ ভন্ডের দল মূর্খরা সব শোন/ মানুষ এনেছে গ্রন্থ, গ্রন্থ আনেনি মানুষ কোন’

ঠিক এইরকম কঠিনভাবে ভন্ডদের কেউ আমাদের ধরিয়ে দিতে পারতো না। যদি নজরুল না জন্মাতেন। আজ তিনি বলতে গেলে অচ্ছুৎ। এই দানবীক বিরাট মেধাবী মানুষকে নিয়ে খুব বেশি উৎসাহ দেখি না। একদল বলে নজরুল খাটি মুসলমান। তাকে টুপি পরাতে চায়। আরেকদল ওরা টুপি পরালো বলে গোস্বা করে বসে থাকে। কিন্তু কাজী নজরুল ইসলাম জরুরি এবং প্রাসঙ্গিক। যত আমরা অন্ধকারের দিকে ধাবিত হতে থাকবো ততই নজরুল প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠবেন। তাঁকে জাগতিক জীবনে ধরে আমাদের প্রাণ ফিরে আসবে। এটাই মনে করি।

শুভ জন্মদিন বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম।

মা’দের সংগ্রাম

কার্ল মার্ক্সের মা মনে করতেন, মার্ক্স যদি বছরের পর বছর খেটে পুঁজি নামের বইটি না লিখে। শুধুমাত্র পুঁজি সংগ্রহ করতো। তাহলে ছেলেটা সুখে থাকতো। সেই মা-ই আবার বলেছেন, কার্ল মার্ক্সকে নিয়ে আমি গর্ব করি।

চার্লি চ্যাপলিনের মা ছেলের মুখে খাবার দিতে পারতেন না বলে পাশের বাড়িতে ছেলেকে খেলতে পাঠাতেন। যদি বড় লোকের ছেলের সঙ্গে খেলে কিছু চা পানি খেতে পায়। কিন্তু নিজে থাকতেন ভূখা। ছোট্ট চ্যাপলিন বুঝতে পারতেন তাই মায়ের সঙ্গে বহু দিন জানালার পাশে বসে কোলে মাথা রেখে তিনিও উপোষ থাকতেন। চ্যাপলিন শেষে বিশ্ব বিখ্যাত হয়েছিলেন কিন্তু মাকে তিনি কখনো ভুলে যান নি।

শহীদ আজাদের মা একাত্তরের সময় ভাত নিয়ে গিয়েছিলেন জেলে। ছেলের আবদার ছিলো তাই পছন্দের খাবার নিয়ে গিয়েছিলেন। জেলে গিয়ে এও বলে এসেছিলেন। খবরদার তোমার সাথের বন্ধুদের কথা বলো না। কিন্তু গিয়ে দেখেন ছেলে নেই। তারপর থেকে তিনি আর মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ভাত মুখে তুলেন নি।

ব্রিটিশ বিরোধী বিপ্লবী ভগৎ সিংয়ের ফাঁসির আদেশ হয়েছে। মা বিদ্যাবতী শেষ দেখা দেখতে গেছেন। গিয়ে বলছেন, বাবা ভগৎ শেষবার ‘বিপ্লব দীর্ঘজীবী হোক’ স্লোগান তুলে আবারও কাঁপিয়ে দিয়ে যাও এই ব্রিটিশ শাসন। ভেবো না-তোমার এই মৃত্যু মহান মৃত্যু মানুষ মনে রাখবে। সেই মা-ই করাচির এক সমাবেশে জানাচ্ছেন। আমার এক ছেলেকে তোমরা ফাঁসি দিয়েছো। আরেকটা আছে তাকেও স্বাধীনতার জন্য কোরবানি দেবো।

বাংলাদেশে ধর্ষিত পূর্ণিমা রাণীর মার কথা নিশ্চয়ই মনে আছে। যিনি অসহায় হয়ে ঘরের দরজার সামনে বসে বলেছিলেন, বাবারা একজন একজন করে যাও আমার মেয়েটা ছোট। মেয়ে ধর্ষণ করতে আসছে তারপরও মার মুখে বাবা শব্দ। তবুও পূর্ণিমাকে মা রক্ষা করতে পারেন নাই। অসহায় মাঝে মাঝে চোখে জল আনো।

লড়াইটা মায়েরা করেন। লড়াইটা নারীরা করেন।

মাটিতে লেগে আছে রক্তের দাগ

আমার পাড়ার রাস্তায় রক্তের দাগ। বাড়িতে বাড়িতে আর্ত চিৎকার। শহরের রাজপথে অসংখ্য মানুষের দেহ। স্কুলে-কলেজে-বিশ্ববিদ্যালয়ে-হাসপাতালে, ঘরবাড়িতে মানুষের রক্ত। আগুন জ্বলছে চৌহাট্টায়, বোমা পড়ছে টিলাগড়ে, গুলি হচ্ছে সদর হাসপাতালে। শিশুর কান্না আমি শুনতে পাই। নির্যাতিত নারীর চিৎকার আমার কানে এখনো লাগে। অসহায় বাবার চোখের জল গড়িয়ে পড়ে আলোহীন টেবিলে। বাঙলার শ্রেষ্ঠ মানুষের কন্ঠরোধ  করা বুটের আওয়াজ আমি শুনতে পাই। মাটিতে পড়ে আছে লাশ, আকাশে ফেনা তুলছে ধোঁয়া। সুরমায় ভেসে যায় অসংখ্য সুন্দর মুখ। দেয়ালে দেয়ালে আমাদের মুক্তির বার্তা। এখনো শুনতে পাই। এখনো জেগে আছে আমার শহর। আমাদের পাড়া, বাপ-দাদার স্মৃতিজড়িত গ্রাম, স্কুল পালানো গলিপথ, খেলার মাঠ, যৌবনা সুরমা নদী। ভুলে যেতে চাই না। ভুলে যেতে চাই না শহরের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের। যাদের আত্মত্যাগে মাটি, গাছ, নদী, মানুষ; সর্বোপরি আমি।

মুক্তি অথবা মৃত্যু। লাতিন আমেরিকার মহান কমিউনিস্ট বিপ্লবী চে গেভারারার সংকল্প। পরবর্তীতে সারা বিশ্বের অসংখ্য মুক্তিকামী মানুষের সংকল্প হয়ে দাঁড়িয়েছে চে’র এই বজ্রকঠিন সংকল্প। কখনো অসংখ্য মানুষের মৃত্যু মুক্তি নিয়ে আসে। মুক্তির তৃষ্ণা ধর্ম-বর্ণ, লিঙ্গ বৈষম্যকে ঊর্ধ্বে তুলে মানুষের রক্তে মহাকাব্য লিখে রাখে। আমরা মুক্ত হতে চেয়েছিলাম, আমরা একটা নির্ভেজাল আকাশ চেয়েছিলাম, আমরা আমাদের মাটি, মানুষ, সংস্কৃতিকে রক্ষা করতে জীবন দিয়েছিলাম। সেখানে কোন কার্পণ্য ছিলো। আমেরিকার স্কলারশিপ, ইংল্যান্ডের চমকানো রাত আমাদের কিচ্ছু ভালো লাগে নি। আমাদের ভালো লেগেছিল সুরমা-যমুনার পার, আমাদের ভালো ধুলোমাখা গ্রামের মেঠোপথ, আমাদের ভালো লেগেছিল বাউলের কণ্ঠ, আমাদের ভালো লেগেছিল মাছ-ভাত। আমাদের কাছে মহান ছিল আমাদের মা-মাটি। আমাদের বিরাট কাজ ছিল মাটি-মানুষ-সংস্কৃতি রক্ষার দায়িত্ব।

এটা অবধারিত সত্য, বুদ্ধিজীবীরাই জাগিয়ে রাখেন জাতির বিবেক, জাগিয়ে রাখেন তাদের “রচনাবলীর মাধ্যমে, সাংবাদিকদের কলমের মাধ্যমে, গানের সুরে, বিদ্যালয়ে পাঠদানে, চিকিৎসা সেবায়, প্রকৌশলে, রাজনীতি ইত্যাদির মাধ্যমে জনগণের সান্নিধ্যে এসে। একটি জাতিকে নির্বীষ করে দেবার প্রথম উপায় বুদ্ধিজীবী শূন্য করে দেয়া। বুদ্ধিভিত্তিক চর্চার এবং মুক্তচিন্তার ফেরিওয়ালাদের হত্যা করা। ২৫ মার্চ রাতে এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল অতর্কিতে, তারপর ধীরে ধীরে, শেষে পরাজয় অনিবার্য জেনে ডিসেম্বর ১০ তারিখ হতে ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে দ্রুতগতিতে।

১৯৭১ সাল সিলেট শহর। হানাদার বাহিনীর বর্বর ধ্বংসলীলায় যখন মানুষ দিশেহারা পলাতক, এমন ভয়ঙ্কর অনিশ্চিত সময়ে প্রিয় মাতৃভূমির মানুষের সেবায় সংকল্পে স্থির ও নির্ভীক ছিলেন সিলেট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের প্রধান ডা. শামসুদ্দিন আহমদ। প্রায় জনশূন্য সিলেট শহরে থেকে মুমূর্ষু যুদ্ধাহত বীরদের তিনিই ছিলেন একমাত্র ভরসা। ক্ষুদ্র কিন্তু মানসিকভাবে বিরাট মেডিকেল টিমের অগ্রসৈনিক ছিলেন তিনি। তাঁর মেডিকেল টিমে ছিলেন তরুণ তুর্কি ইন্টার্ন ডাক্তার শ্যামল কান্তি লালা। যার সবুজ হৃদয়ে ছিল দেশের মানুষের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা। ভয়ঙ্কর নিরাপত্তাহীন সময়েও তিনি জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের সেবা করে গেছেন। চারিদিকে বারুদের গন্ধ,শহর পুড়ছে, মানুষ মরছে দেদারসে কিন্তু তিনি ছিলেন অবিচল। পড়ে থাকা মা-বোনের লাশের উপর দিয়ে হাঁটা আর বর্বর রাজাকার-হানাদারদের বিষাক্ত জিহ্বার মধ্যে তিনি ছিলেন বাংলাদেশের সাহস। যার সেবার বদৌলতে রণাঙ্গনে অসংখ্য অগ্নিশিখা মজুদ হয়েছে। যারা সুস্থ হয়ে লড়াই করেছে, মা-মাটির জন্য। সেই মেডিকেল টিমে আরেকজন ছিলেন। তিনি সদাহাস্যজ্জ্বল, দৃঢ় মনোবলের মানুষ এম্বুলেন্সচালক কোরবান আলী। যার কাজ ছিলো যখনই গুলির শব্দ কানে আসতো তখনই রাজপথে ছুটে গিয়ে আহত মা-বোন-ভাইকে গভীর মমতায় কোলে করে নিয়ে আসা। তাঁর সাহস অসংখ্য মানুষ বাঁচিয়েছে।

যেখানে পাকিস্তান সাপ-বিচ্ছুদের ভয় ছিল, ভয় ছিল তারই মায়ের কোল থেকে জন্ম নেওয়া হিংস্র রাজাকারদের। সেখানে নিজের জীবন কোরবান করার নেশায় ছুটে গেছেন আহতদের পাশে। তাদের সুস্থ করতে তুলে দিয়েছেন মেডিকেল টিমের হাতে। দিবারাত্রি আহতদের সেবা করেছেন। বাংলার মাটির মতো আগলে রেখেছেন বুকে। ব্যথা হলে বলেছেন, ওগুলো সেরে যাবে তেমন কিছু না। আহার-নিদ্রা ভুলে সেই মেডিকেল টিমের আরেকজন মানুষ অপারেশন থিয়েটারের সেবক মাহমুদুর রহমান। বর্বর হানাদার আর দোসর দালালরা এই দামাল ছেলেদের ঠেকাতে না পেরে, নির্মমভাবে হাসপাতালের ভেতর হত্যা করেছিল। বর্বরতা মাপা যায় না। গেলে জানা যেতো যারা চিকিৎসারত অবস্থায় ডাক্তার এবং রোগি হত্যা করে। তারা কত নিকৃষ্টতম বর্বর। তবে আমরা বুঝতে পারি, অনুভব করতে পারি, চোখ দিয়ে দেখতে পারি হিংস্র বর্বরতা।

এখানেই শেষ নয়। এই হত্যার প্রতিবাদ এবং মুক্তিযোদ্ধাদের সাহায্য করায় হত্যা করায় সিলেট মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ও সুপারেন-টেনডেণ্ট লে. কর্নেল ডা. জিয়াউর রহমান’কে। এভাবেই সারা বাংলাদেশ তথা সিলেটে অনেক মহান সন্তানকে হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসর রাজাকার-আলবদর-আলশামস হত্যা করেছে। জাতিকে মেধাশূন্য করে দিতে চেয়েছিল পাকিস্তানি এবং তাদের দোসর রাজাকাররা।

৪৪ বছর চলছে। মুক্তবুদ্ধি চর্চা তীব্রশিখায় বাঙলার মুক্তি আন্দোলন যে সর্বগ্রাসী রূপ পরিগ্রহ করেছিল, তাকে দাবাতেই বুদ্ধিজীবী হত্যা করা হয়েছিল। সর্বব্যাপি বাংলাদেশের আগামীর চিন্তক এবং চিন্তাকে ঠেকিয়ে দিতে-এই বর্বরতা চালানো হয়েছিল। আজও আমরা সে একই হিংস্র হায়েনাদের রাষ্ট্রীয় মদদে উত্থান পরিলক্ষিত করছি। একদিকে উগ্র ধর্মান্ধরা চাপাতি দিয়ে মুক্তবুদ্ধির মানুষকে হত্যা করছে। অন্যদিকে রাষ্ট্র খুন হওয়া মানুষদের বিচার না করে ৫৭-ধারার মতো মধ্যযুগীয় আইন দিয়ে তথাকথিত ধর্মানুভূতিকে এবং রাষ্ট্রীয়তন্ত্রকে সুরক্ষা দিতে চাচ্ছে। যা মুক্তিযুদ্ধের কাঙ্ক্ষিত স্বদেশ বিনির্মাণের বড় বাঁধা এবং একাত্তরের শহীদদের সঙ্গে প্রতারণা।

মুক্তচিন্তক রাজীব হায়দার, অভিজিৎ রায়, ওয়াশিকুর বাবু, অনন্ত বিজয় দাস, নীলয় নীল এবং আরেফিন ফয়সাল দিপন হত্যাকারীদের বিচার করতে হবে। ধর্মভিত্তিক রাজনীতি মুক্তিযুদ্ধের কাঙ্ক্ষিত স্বদেশের মধ্যে কোন রূপেই ছিল না। সেই রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে হবে।

মানুষেই ইতিহাসের উপাদান। মানুষই মুক্তির মহাকাব্যের স্রষ্টা। মুক্তিযোদ্ধা এবং মহান বুদ্ধিজীবীদের অসমাপ্ত কাজই আমাদের কাজ। আমরা ভুলে যেতে চাই না একাত্তর-এবং একাত্তরের শহীদদের স্বপ্ন।

স্বপ্নের অই পাখি ধরবই সঞ্জীব চৌধুরী

hqdefault

নিরন্নের, অন্ন ও পানীয়ের অধিকারেও তিনি বুক টানটান করে দাঁড়িয়ে থাকতেন। মানুষের যন্ত্রণাদায়ক পাঁজরের ইতিহাস তাঁকে ভাবাতো। ভাবাতো রাষ্ট্রের হেফাজতে থাকা ধর্ষিতা ইয়াসমিন, তাঁকে ভাবাতো হবিগঞ্জের মাটি কাটার শ্রমিকেরা, তাকে ভাবাতো গাড়িতে গুম করে নিয়ে যাওয়া তিনশ’টি লাশ। স্বাধীন বাংলাদেশে স্বপ্নের কথা বলায় উদ্ধত রাইফেল কিংবা বেয়নেট তাকে থামাতে পারেনি। তাঁর স্বপ্ন দেখা থামিয়ে দিতে পারে নি। মনের অসুখ নিয়ে ডানা ভাঙ্গা শালিকের হৃদয়ের দাবির কথা জানাতে চেয়েছিলেন। থমকে থাকা বাতাস আর তুড়ির তালে নাচতে আর সবার মত তাঁর বিবেকে বেঁধেছিল। তাই পোশাকি সিস্টেমের অসুস্থতা তিনি সারিয়ে তুলতে চেয়েছিলেন। সংস্কৃতির হাতুড়ি দিয়ে অবিরত আঘাত করে গেছেন। অস্বীকার করেননি রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা। তিনি চেয়েছিলেন গণমানুষের সেই স্বপ্নের অসাম্প্রদায়িক, সমতার এবং মুক্ত এক সমাজ।

আগুনে পোড়ে, গরীব যখন কংক্রিটে পিষে, মাথা থেঁতলে, হাড় গুড়ো হয়ে প্রতি ঘণ্টায় মরে- গরিব যখন ‘দুইডা ভাতের লাগি’ অর্ধেক হেলেপড়া মৃত্যুকূপে মেশিন চালায়, ঠিক তখন রাষ্ট্রে নাকি কয়েক কোটি মানুষ দারিদ্রসীমার উপরে উঠে যায়। তখন সঞ্জীব চৌধুরী হাজার ভোল্ট তাচ্ছিল্যের সহিত গাইলেন

“রেডিওতে খবর দিসে, দেশে কোন অভাব নাই
লাইল্লার ঘরে কাইল্লার ঘরে আনন্দের আর সীমা নাই
ঘইশার মা কয় খইশার মারে, আমরা কিসু বুঝি না,
ও না না আমরা কিসু বুঝি না”

এভাবেই ভাবতেন, গাইতেন এবং স্বার্থপর সমাজের বুকে অবিরত হাতুড়ি পেঠাতেন সঞ্জীব চৌধুরী। তিনি I hate Politics- প্রজন্মের কেউ নন। স্কুল থেকেই শুরু হয়েছিল ছাত্র রাজনীতি। তারপর ঢাকা কলেজ তাঁর প্রিয় ও প্রাণের সংগঠন ছাত্র ইউনিয়নে পুরোপুরি সক্রিয় হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত সর্বত্রই তিনি ছাত্র অধিকার আন্দোলনে সোচ্চার ছিলেন। ছাত্র ইউনিয়নের জন্য নিবেদিত প্রাণ এই মানুষটি ছাত্র ইউনিয়নের সাংস্কৃতিক সম্পাদক ছিলেন। এসময় ছাত্র ইউনিয়নে তিনি গড়ে তোলেন শক্তিশালী সাংস্কৃতিক ইউনিয়ন। নীল পতাকা লাল হবে-সমাজতন্ত্র কায়েম হবে। একটি অসাম্প্রদায়িক,সমতার,গণমানুষের বর্ডারলেস পৃথিবীর স্বপ্ন দেখতেন আমাদের প্রিয় সঞ্জীব দা।

যে আপোষহীন রাজনৈতিক চেতনা আর আদর্শ ধারণ করেছিলেন। সেই চেতনাই তাকে ডেকে নিয়েছিল ১৯৯০-এর স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে। রাস্তায় রাস্তায় স্বৈরাচার বিরোধী ও গণজাগরণের গান গেয়ে মানুষকে উজ্জীবিত করে তুলতেন। হাজার বাঁধা সত্ত্বেও মানুষকে তাঁর স্বপ্নের কথা জানিয়ে দিতে কার্পণ্য করেন নি সঞ্জীব দা।

“আমি ঘুরিয়া ফিরিয়া সন্ধান করিয়া
স্বপ্নের অই পাখি ধরতে চাই
আমার স্বপ্নের ই কথা বলতে চাই
আমার অন্তরের কথা বলতে চাই। “

এক বিষন্ন কার্তিকের মধ্যরাতে বাইলেটারেল সেরিব্রাল স্কিমিক স্ট্রোকে স্বাভাবিক হৃদস্পন্দন তাঁর থেমে যায়। কিন্তু তিনি আছেন ভিষণভাবে আছেন সারা বাংলাদেশে। আজও সারা বাংলাদেশের মানুষ তাঁর স্বপ্ন বহে নিয়ে যায় প্রতিদিন প্রতিরাতে।